আন্তঃজেলা সিরিয়াল অপরাধী ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত গোলাম মোর্শেদ ওরফে মোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তারে বিশেষ ভূমিকা রাখায় নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক সম্মেলনে গতকাল বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মে ও জুন মাসে নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা থানা এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি কয়েকজন নারীর ওপর হামলা চালান। এসব ঘটনায় বাঁশ ও ধাতব অস্ত্র দিয়ে হামলা করে ৮ থেকে ৯ জন নারীকে গুরুতর আহত এবং একজনকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। হামলার পর ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে নওগাঁ জেলা পুলিশের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তদন্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, একই ধরনের অপরাধ দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলাতেও ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন নারী গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি দুই নারী নিহত হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের পর নওগাঁ জেলা পুলিশ গোলাম মোর্শেদ ওরফে মোরশেদ আলমকে শনাক্ত করে। পরে ১১ জুন ২০২৬ গাজীপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম মোর্শেদ এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতেও তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আন্তঃজেলা সিরিয়াল অপরাধীকে গ্রেপ্তারে নওগাঁ জেলা পুলিশের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের ভাষ্য, এই স্বীকৃতি জেলা পুলিশের সদস্যদের মনোবল আরও বাড়াবে।
নওগাঁর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সড়কে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a comment