যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যদের জীবিত বন্দি করতে পারলে বা হত্যা করতে পারলে মোটা অঙ্কের অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি আমির হাতামি এক বক্তব্যে জানান, কোনো ইরানি নাগরিক যদি একজন মার্কিন সেনাসদস্যকে জীবিত আটক করতে পারেন বা হত্যা করতে সক্ষম হন, তবে তাঁকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই অর্থ সংগৃহীত হবে সাধারণ ইরানি জনগণের তহবিল থেকে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই শীর্ষস্থানীয় এই সামরিক কর্মকর্তার এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
এর আগেও মার্কিন রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে একই ধরনের পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন ইরানের নীতি নির্ধারকরা। চলতি বছরের ১৫ মে ইরানের পার্লামেন্টের জ্যেষ্ঠ সদস্য ইব্রাহিম আজিজি জানান, দেশটির সংসদে উত্থাপিত একটি বিলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার বিনিময়ে ৫ কোটি ইউরো পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমাগত জটিল হতে থাকে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সামরিক পর্যায় সরাসরি সংঘাতের পর পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগেই ইরানের ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যার বিরুদ্ধে তেহরান শুরু থেকেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো মার্কিন নাগরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার চক্রান্ত চালাচ্ছে। তবে স্বয়ং সেনাপ্রধানের মুখ থেকে সরাসরি মার্কিন সেনা হত্যার বিনিময়ে আর্থিক পুরস্কারের কথা বলাকে আঞ্চলিক সংঘাত বাড়িয়ে তোলার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কিংবা হোয়াইট হাউজের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। তবে সাধারণত এ জাতীয় হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে থাকে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ধরনের বাউন্টি ঘোষণা চলমান আলোচনা ও মধ্যস্থতার পথকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে এমন একটি সময়ে এই ঘোষণাটি এলো, যখন পাকিস্তান ও কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। ফলে নতুন এই ঘটনাপ্রবাহে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ আবারও বড় ধরনের রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a comment