মধ্যপ্রাচ্যে চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে ‘খুব দুষ্ট’ বলে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের কারণে আমেরিকানদের জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বহিরাগত হুমকি ও পারমাণবিক ঝুঁকি দূর করতে এই বাড়তি আর্থিক চাপ মেনে নেওয়া সার্থক। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনকে বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করে পরাজয় মেনে নেওয়ার পাল্টা তাগিদ দিয়েছে তেহরান।
নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দেন যে, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও বৃহত্তর কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে তা সহ্য করতে হবে। তেহরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র লাভ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। তবে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা এ সংঘাত নিরসনে বা শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষের মধ্যেই কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া তো দূরের কথা, যুদ্ধরত পক্ষগুলোর অবস্থান দেখে এই সংঘাত শিগগিরই শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এরই প্রেক্ষাপটে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিষ্কার জানান, এই প্রণালি কখন খুলবে বা বন্ধ থাকবে তা সম্পূর্ণ ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ওয়াশিংটন অবাস্তব কল্পনাবিলাস বন্ধ করে পরাজয় স্বীকার না করা পর্যন্ত অবরোধ বহাল রাখার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
একই সুর ফুটে উঠেছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও। তিনি স্পষ্ট জানান, হরমুজ প্রণালিতে আবার নৌযান চলাচল শুরু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের এমন বিপরীতমুখী ও অনড় অবস্থানে সমগ্র বিশ্বের মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
Leave a comment