দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ড্রোন হামলায় তাদের ৩ সেনা সদস্য মারাত্মক আহত হওয়ার পর, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কঠোর জবাব হিসেবে এই সামরিক হামলা পরিচালিত হয় বলে দাবি করেছে তেল আবিব।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করা হয়, লক্ষ্যবস্তু করা সামরিক স্থাপনায় হিজবুল্লাহ ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ লোকজনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল। সংস্থাটি আরও জানায়, নিহত নারী ও শিশুরা বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের পরিবারের সদস্য। এই প্রাণঘাতী সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুদেশের কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে ইসরায়েল এটি একটি আগ্রাসী ও ‘স্পষ্ট বার্তা’ দিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, টাইরের উত্তরাঞ্চলীয় আনসার এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালালে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত ও দুজন আহত হন। একই সময়ে নাবাতিয়েহের দেইর আল-জাহরানি এলাকায় পরিচালিত পৃথক বিমান হামলায় আরও চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হন।
আইডিএফ জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাত থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন কৌশলগত অঞ্চলে হিজবুল্লাহর সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করতে এ অভিযান শুরু করা হয়। বিশেষ করে নাবাতিয়েহ এলাকার আলি তাহের রিজ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ হিজবুল্লাহ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়। এর আগে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে হিজবুল্লাহর ছোড়া একটি মারাত্মক বিস্ফোরক ড্রোন আইডিএফের অভিজাত ইয়াহালোম কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের ওপর আঘাত হানলে এক কর্মকর্তা ও দুই সেনা গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই নাবাতিয়েহ ও আনসার এলাকায় এই ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়।
Leave a comment