কুমিল্লার দেবিদ্বারে আফরিন আক্তার (১৭) নামের এক একাদশ শ্রেণির কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। আত্মহত্যার আগে প্রেমিককে পাঠানো আফরিনের একটি অত্যন্ত আবেগঘন শেষ বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকা জুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ পৌরসভার মেল্লাবাড়ী মসজিদ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসার চারতলা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আফরিন দেবিদ্বার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিনাইপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের মেয়ে এবং পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া সাখাওয়াত হোসেন সানির সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আফরিনের পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় গত ৯ আগস্ট দুই পরিবারের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠক হয়।
এরপর মনোমালিন্যের জেরে মা মরিয়ম বেগম মেয়েকে বাসায় একা রেখে বাবার বাড়ি চলে যান। পরদিন ১০ আগস্ট দুপুরে সৌদি আরবপ্রবাসী ছেলের ফোনে বাসায় ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে আফরিনকে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
মৃত্যুর পূর্বে প্রেমিক সানিকে পাঠানো শেষ মেসেজে আফরিন লিখেছিল, “আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি… কখনো ভাবিনি এমন একটা সময় আসবে, যে সময়ে তোমাকে হারিয়ে ফেলব… হয় তো আজ আমার শেষ নিঃশ্বাসটাও কেউ দেখবে না। আমাদের আর কখনো কথা হবে না… বাই। আল্লাহ হাফেজ।” নিহত ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, সানির প্ররোচনা ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই তার মেয়ের এই অকাল মৃত্যু ঘটেছে এবং তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment