যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার মধ্য দিয়ে আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা। হিজরি বর্ষের সফর মাসের শেষ বুধবার ইসলামিক ইতিহাসে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ হিসেবে পরিচিত। দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশের সব ধরনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসলামিক ইতিহাস ও নির্ভরযোগ্য বিবরণ অনুযায়ী, সফর মাসের শেষ বুধবার মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দীর্ঘ ও জটিল অসুস্থতার পর সাময়িক আরোগ্য ও সুস্থতা বোধ করেছিলেন। প্রিয় নবীর শারীরিক সুস্থতার খবর পেয়ে সাহাবিরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিপুল পরিমাণ দান-সদকা করেছিলেন। সেই স্মৃতি স্মরণ করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ দিনে বিশেষ নফল ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার ও দান-সদকা করে থাকেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন সব কলেজ ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং শ্রেণি পাঠদান বন্ধ থাকবে। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ দেশের অন্যান্য স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছুটি নিশ্চিত করেছে।
যদিও বাংলাদেশে আখেরি চাহার সোম্বা উদযাপনের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত প্রচলিত রয়েছে, তবুও রাষ্ট্রীয় ছুটির অংশ হিসেবে এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রতি বছরই দিনটি বিশেষভাবে পালন করা হয়। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ ছুটি থাকলেও আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে যথারীতি পুনর্বার নিয়মমাফিক ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম চালু থাকবে।
Leave a comment