প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাজিরহাট বাবুনগর আল জামেয়াতুল উলুম মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির প্রবীণ আলেমে দ্বীন আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন। গত রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে দুই নেতা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং প্রবীণ এই আলেম প্রবাস থেকে ফিরে সরকারের সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে দোয়া ও শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রবীণ আলেম শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দেশ পরিচালনায় আলেম সমাজের দোয়া প্রার্থনা করেন।
একান্তে অনুষ্ঠিত আলাপচারিতার পর প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। আলেমদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি একজন মুসলমান। বাংলাদেশের সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে ইসলাম রয়েছে। আমি মনেপ্রাণে সবসময়ই ইসলামের সপক্ষে। দোয়া করবেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যাতে ঈমানের সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারি।” তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকারের সময়ে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন বা পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ কল্পনাতীত। রাষ্ট্র গঠনে এবং দেশবিরোধী চক্রান্ত রুখতে তিনি আলেম সমাজের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান সরকারের কাছে ৯ দফা দাবিনামা পেশ করেন। দাবিসমূহের মধ্যে উল্লেখ্য ছিল— মহান আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে কঠোর আইন পাস করা, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন না করা, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা, কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদ অনুযায়ী সরকারি চাকুরির সুযোগ তৈরি এবং বিতর্কিত সাদপন্থীদের টঙ্গী ইজতেমায় সুযোগ না দেওয়া। অনুষ্ঠান শেষে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সরকারের সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানান।
উক্ত মতবিনিময় সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার যোগে ফটিকছড়ি পৌঁছালে স্থানীয় তৌহিদি জনতা এবং উলামায়ে কেরাম তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেন। জাতীয় নীতি নির্ধারণে দ্বীনি মূল্যবোধ ও আলেম সমাজের পরামর্শের এই সংযোগ রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও ইতিবাচক সাড়া জাগিয়েছে।
Leave a comment