জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে জাল ডিও লেটার তৈরি ও ব্যবহার করে বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে এক সহকারী কমিশনার (ভূমি)–এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন। মামলায় বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবের মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন, শাওন মজুমদার সুমন ডেপুটি স্পিকারের নামে একটি জাল ডিও লেটার তৈরি করেছেন। ওই চিঠিতে ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর ও সরকারি লেটারহেড ব্যবহার করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, ওই চিঠির মাধ্যমে বরগুনা সদর থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় তাঁর বদলির আদেশ বাতিল করে ঢাকার কেরানীগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠিটি উপস্থাপন বা উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
পরে চিঠিটি যাচাই করে দেখা যায়, কথিত ডিও লেটারটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি। চিঠিতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষা, বিন্যাস ও অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকারের পদমর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সরকারি নথি ও পরিচয় অবৈধভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বাদীর দাবি, ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র জড়িত থাকতে পারে। এ কারণে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা, নথিপত্র যাচাই, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ই-মেইল, প্রিন্টিংয়ের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক ও যোগাযোগের তথ্য তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে।
এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ ও ১২০-বি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে কথিত জাল ডিও লেটার, প্রকৃত ডিও প্যাডের নমুনা ও অন্যান্য নথি সংযুক্ত করা হয়েছে।
Leave a comment