ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও হাতে হাতকড়া পরানো ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ মিজানুর রহমান খান ওরফে মনির খান (৪৮) মারা গেছেন। বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিহত মিজানুর রহমান মনির খান পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ইতিপূর্বে জেলা ও উপজেলা যুবলীগের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন। পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা এই নেতা বিগত ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর মিন্টু রোড এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা ও পটুয়াখালীতে মোট ৮টি মামলা ছিল।
পরিবার ও চিকিৎসাসূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১ মাস কারাবন্দী থাকার পর গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় মনির খান মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হন। অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে ঢামেক হাসপাতালে এবং পরে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় দুই মাস তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। এরই মাঝে আইসিইউর বিছানায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর হাতে হাতকড়া পরানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
তীব্র সমালোচনার মুখে এবং ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর একে একে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সবকটি মামলায় আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হয় এবং পুলিশ হাতকড়া খুলে নিতে বাধ্য হয়। তবে ততক্ষণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হয়ে যায়। নিহতের স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন মিললেও জীবিত অবস্থায় আর মুক্ত বাতাসে ফেরা হলো না তাঁর; শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মাধ্যমেই কারাজীবনের সমাপ্তি ঘটল। বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
Leave a comment