ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে যে মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, তারও সমর্থন করে না সরকার।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘সরকারের এ বিষয়ে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। ওই অনুষ্ঠানে যেসব মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, সেগুলোরও সমর্থন করে না ভারত সরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যে অনুষ্ঠানের কথা বলছেন, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে।’
বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও সংযোগে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের তথ্যমতে, অনুষ্ঠানে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আরও কয়েকজন বক্তাও অংশ নেবেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনার নির্ধারিত বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এম. হুমায়ুন কবির ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশা করে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি, পলাতক শেখ হাসিনাসহ, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না।
গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য, বিবৃতি, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও–ভিডিও বার্তা বাংলাদেশে প্রচার বা প্রকাশ করা আইনবিরোধী। তাই স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো তাঁর নির্ধারিত বক্তব্য সম্প্রচার বা প্রকাশ করতে পারবে না।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, সরকার সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনার সহযোগী আবু ওবায়দা আরিনও বলেছেন, নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
Leave a comment