দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গাজা উপত্যকায় উদ্ধার করা হলো ১১২ জন নিরীহ ফিলিস্তিনির খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ। ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো একই পরিবারের একাধিক প্রজন্মের সদস্যদের স্মরণে গাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ফিলিস্তিনের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ গণজানাজা। শোক, অশ্রু আর ক্ষোভের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের শেষ বিদায় জানান।
স্থানীয় ও উদ্ধারকারী দল সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় দুটি বৃহৎ পরিবারের সমস্ত আবাসন সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে যায়। এর পর থেকেই তারা নিখোঁজ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিলেন। দীর্ঘ তিন বছর পর আধুনিক সরঞ্জাম ও নিরবচ্ছিন্ন মানবিক অভিযানের মাধ্যমে অবশেষে মাটি ও কংক্রিটের নিচ থেকে এই ১১২টি মরদেহ একে একে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অত্যন্ত মর্মান্তিক বিষয় হলো, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে প্রায় ৪০ জনই নিষ্পাপ শিশু।
মঙ্গলবার আয়োজিত এই অভূতপূর্ব গণজানাজায় অংশ নেন গাজার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। তিন বছর ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনদের মরদেহ পড়ে থাকার যন্ত্রণা বয়ে বেড়ানো স্বজনেরা শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় যারা সঠিক ধার্মিক আনুষ্ঠানিকতার সুযোগ পাননি, অবশেষে মঙ্গলবার সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
একই পরিবারের কয়েক প্রজন্মের মানুষ একসঙ্গে প্রাণ হারানোর ঘটনা পুরো গাজা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। শোকগ্রস্ত স্বজনরা জানান, এতদিন পর হলেও প্রিয়জনদের অন্তত একটি কবরের ঠিকানা দেওয়া গেছে, যা তাদের কিছুটা হলেও মানসিক সান্ত্বনা দিচ্ছে। তবে এই দীর্ঘ অপেক্ষা এবং স্বজন হারানোর যে স্থায়ী ক্ষতি, তা কোনো দিনও পূরণ হওয়ার নয়। সংঘাতের নামে বিশ্বজুড়ে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন জানাজায় উপস্থিত ক্ষুব্ধ ও শোকার্ত মানুষ।
Leave a comment