জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট ভয়াবহ সংঘর্ষ ও উত্তেজনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুরুতর হামলার শিকার হয়েছেন পেশাগত দায়িত্বে নিয়োজিত ছয়জন সাংবাদিক। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা সংবাদকর্মীদের এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি তাদের মোবাইল ফোন ও প্রেসকার্ড কেড়ে নিয়ে চরম হেনস্তা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের রফিক ভবনের সামনে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যখন স্লোগান ও মহড়া দিচ্ছিল, তখন পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয়। শুধু মারধরই নয়, সংবাদ সংগ্রহের মূল হাতিয়ার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয় এবং সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র (প্রেসকার্ড) প্রদর্শন করার পরও তাদের গালাগালি ও লাঠি দিয়ে অতর্কিত আঘাত করা হয়।
হামলায় মারাত্মক আহত সাংবাদিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা কোনো পক্ষের প্রতিনিধি হয়ে নয়, বরং পেশাদার সংবাদকর্মী হিসেবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের শারীরিক নির্যাতন করার পাশাপাশি পেশাগত স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরপরই সহকর্মীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাদের সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে আহতদের স্থানান্তরিত করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)। বর্তমানে তারা ঢামেকের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ক্যাম্পাস এলাকায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সংবাদকর্মীদের ওপর এমন নৃশংস হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল এবং সংবাদকর্মী সমাজ অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
Leave a comment