২০২৬ বিশ্বকাপে মার্কিন পুরুষ ফুটবল দলের সাফল্যের আর্থিক সুফল পাচ্ছেন দেশটির নারী ফুটবলাররাও। মাঠে না নেমেও পুরুষ দলের বিশ্বকাপ প্রাইজমানির একটি অংশ পাচ্ছেন তারা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নারী জাতীয় দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভাগে আসছে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে উঠে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ দল ফিফার কাছ থেকে ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি নিশ্চিত করে। তবে সিয়াটলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়।
মার্কিন ফুটবল ফেডারেশন (ইউএস সকার) ও খেলোয়াড়দের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া অর্থের ২০ শতাংশ ফেডারেশনের কাছে থাকবে। বাকি ৮০ শতাংশ পুরুষ ও নারী জাতীয় দলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। সে হিসাবে উভয় দলই পাবে ৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে।
ফলে বিশ্বকাপে অংশ না নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের নারী জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা পুরুষ দলের খেলোয়াড়দের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন। প্রত্যেকের ভাগে পড়বে প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন কোটিরও বেশি।
এই ব্যবস্থার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সমান পারিশ্রমিক আন্দোলন। পুরুষদের সমান সুযোগ-সুবিধা ও পারিশ্রমিকের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০২২ সালের মে মাসে ইউএস সকার, পুরুষ জাতীয় দলের খেলোয়াড় ইউনিয়ন এবং নারী জাতীয় দলের খেলোয়াড় ইউনিয়নের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়। সেই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের প্রথমবারের মতো কোনো দেশের পুরুষ ও নারী জাতীয় দল ফিফার টুর্নামেন্ট থেকে অর্জিত প্রাইজমানি সমানভাবে ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে নারী ফুটবলাররা এই অর্থ এখনই হাতে পাচ্ছেন না। কারণ, ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাছাইপর্ব খেলছে। চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার পর বিশ্বকাপ দলে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যেই অর্থটি বিতরণ করা হবে। ততদিন পর্যন্ত অর্থ একটি ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত থাকবে এবং এর সুদও পুরুষ ও নারী—উভয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে।
এদিকে পুরুষ দলের বিশ্বকাপ আয়ের একটি অংশ নারী ফুটবলারদের দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ও বোনাস তাদের নিজ নিজ অর্জনের ভিত্তিতেই নির্ধারণ হওয়া উচিত।
অন্যদিকে সমর্থকদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের নারী জাতীয় দলের সাফল্য পুরুষ দলের তুলনায় অনেক বেশি। পুরুষ দল এখনো বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে পারেনি। বিপরীতে নারী দল চারবার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি আসরেই শীর্ষ পর্যায়ের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তাই সমান প্রাইজমানি ভাগাভাগির ব্যবস্থা যৌক্তিক।
পরিসংখ্যানও সেই ব্যবধানের প্রমাণ দেয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে উঠে মার্কিন পুরুষ দল পেয়েছিল ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে ২০২৩ নারী বিশ্বকাপে একই পর্যায়ে পৌঁছে যুক্তরাষ্ট্রের নারী দল পেয়েছিল মাত্র ১ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফিফার প্রাইজমানিতে দীর্ঘদিনের এই বৈষম্যই সমান ভাগাভাগির চুক্তির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a comment