চলতি ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ শেষে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ-পরবর্তী আচরণের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ফিফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হোসাম হাসান। এ সময় তিনি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর কোচিং স্টাফের এক সদস্য আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের দিকে তেড়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দিকে থুতু নিক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাচ শেষে হোসাম হাসান রেফারি, ফিফার কর্মকর্তা ও মাঠে দায়িত্ব পালনরত এক ফটোগ্রাফারের সঙ্গেও উত্তপ্ত আচরণ করেন। একপর্যায়ে ওই ফটোগ্রাফারের দিকে তেড়ে গেলেও নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে থামিয়ে দেন।
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এর আগেও একাধিকবার শাস্তি পেয়েছেন হোসাম হাসান। আল মাসরির কোচ থাকাকালে রেফারিকে অপমান এবং দর্শকদের উদ্দেশে অশোভন আচরণের অভিযোগে তাঁকে নিষিদ্ধ ও জরিমানা করা হয়েছিল।
২০১৬ সালের জুলাইয়ে গাজল আল মাহাল্লার বিপক্ষে এক ম্যাচের পর সরকারি দায়িত্বে থাকা এক ফটোগ্রাফারকে মারধরের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী অভিযোগ প্রত্যাহার করলেও ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁকে ৫০০ মিশরীয় পাউন্ড জরিমানা এবং তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
খেলোয়াড়ি জীবনেও আগ্রাসী আচরণের জন্য আলোচিত ছিলেন হোসাম হাসান। জামালেক এসসির হয়ে খেলার সময় প্রতিপক্ষ কোচিং স্টাফ ও রেফারির সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায়ও জড়িয়েছিলেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ডালাসে দলের হোটেলে এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে হোসাম হাসান ও তাঁর সহকারী কোচ এবং যমজ ভাইয়ের বাগ্বিতণ্ডার খবর প্রকাশিত হয়।
আর্জেন্টিনা ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাগুলোর পর হোসাম হাসানের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ফিফা ব্যবস্থা নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
Leave a comment