সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে পরিসংখ্যানেও নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা। ফিফার সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সে কোচ লিওনেল স্কালোনির ফুটবল দর্শন নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করছেন আলবিসেলেস্তেরা।
টুর্নামেন্টের কিছু ম্যাচে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লড়াই করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ করে মিশরের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছিল দলটি। তবে সেই ম্যাচের পরও নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ও খেলার ধরন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং বলের দখল ধরে রাখার সক্ষমতায় টুর্নামেন্টের অন্য সব দলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা।
বর্তমানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানে শীর্ষে রয়েছে স্কালোনির দল—সর্বোচ্চ গোল, সর্বোচ্চ সফল পাস এবং পাসের সফলতার হার। এর মধ্যে সর্বোচ্চ গোলের পরিসংখ্যানটি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আর্জেন্টিনার ধারালো আক্রমণেরই প্রতিফলন।
কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৪টি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। এ গোলগুলোর বড় অবদান অধিনায়ক লিওনেল মেসির, যিনি ৮ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।
তবে স্কালোনির দলের খেলার প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে পাসিং-সংক্রান্ত দুই পরিসংখ্যানে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৪৪৬টি সফল পাস দিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই তালিকায় ৩ হাজার ৩৮২টি পাস নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। আর ৩ হাজার ১২৬টি সফল পাস নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো।
শুধু পাসের সংখ্যায় নয়, পাসের সফলতার হারেও সবার ওপরে আর্জেন্টিনা। তাদের পাস সফলতার হার ৯১ শতাংশ। স্পেনের সফলতার হারও ৯১ শতাংশ হলেও মোট সফল পাসের সংখ্যায় তারা আর্জেন্টিনার চেয়ে পিছিয়ে। ৮৯ শতাংশ সফল পাস নিয়ে এ তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো।
এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে, আর্জেন্টিনা শুধু বলের দখলই বেশি রাখছে না, সতীর্থদের কাছে বল পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে কম ভুল করছে। স্কালোনির ফুটবল দর্শনের অন্যতম ভিত্তি হলো বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ম্যাচের গতি ও নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা এবং সংগঠিত আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পরিসংখ্যানের এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে আধিপত্য বিস্তার করা দলগুলো হলো আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও মরক্কো।
Leave a comment