ওমর ফারুক
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে টানা বর্ষণে আবারও মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। গত ৪ জুলাই রাত থেকে ৯ জুলাই দুপুর পর্যন্ত ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বিভিন্ন আবহাওয়াজনিত ঘটনায় অন্তত ১৫ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ১১৯ জন এবং সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৪ হাজার ৩০৭ জন।
মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে শরণার্থী শিবিরে মোট ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি ভূমিধস, ১৫৬টি ঝড়ো হাওয়া এবং ২১টি আকস্মিক বন্যার ঘটনা রয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে ২ হাজার ৮০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি আশ্রয় সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে শরণার্থী শিবিরগুলোতে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইজসেন বলেন, সাম্প্রতিক প্রাণহানি আবারও প্রমাণ করেছে যে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রতি বর্ষা মৌসুমেই চরম ঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, নিরাপদ জমির ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিনিয়োগের অভাবে অনেক ঝুঁকি কমিয়ে আনার সুযোগ নষ্ট হচ্ছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সম্পদ, কার্যকর পরিকল্পনা এবং টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
Leave a comment