রোববার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের চেয়ে বেশি চাপে থাকবে ব্রাজিল—এমনটাই মনে করেন নরওয়ের সাবেক মিডফিল্ডার ক্যেতিল রেকডাল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের ঐতিহাসিক ২–১ গোলের জয়ে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন তিনিই।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেকডাল বলেন, “সবচেয়ে বেশি চাপে থাকবে ব্রাজিলই।” তাঁর মতে, দীর্ঘ ২৬ বছর পর নকআউট পর্বে ফিরেই নরওয়ে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করেছে। অন্যদিকে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য জয় ছাড়া অন্য কোনো ফলই বড় হতাশা হিসেবে দেখা হবে।
কাগজে-কলমে ব্রাজিল স্পষ্ট ফেভারিট হলেও পরিসংখ্যান নরওয়ের পক্ষেই কথা বলছে। এখন পর্যন্ত দুই দলের চার দেখায় একবারও জিততে পারেনি ব্রাজিল। এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি ১৯৯৮ বিশ্বকাপে। ফ্রান্সের মার্সেইয়ে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ৮৯ মিনিটে রেকডালের পেনাল্টি গোলে ২–১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল নরওয়ে।
রেকডালের বিশ্বাস, সেই স্মৃতি এখনও ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মনে প্রভাব ফেলে। তাঁর ভাষায়, “এই ভয়টা সবসময়ই থাকবে যে তারা আবারও নরওয়ের কাছে হোঁচট খেতে পারে।”
তবে বর্তমান নরওয়ে দল অতীতের স্মৃতি নিয়ে মাঠে নামবে না বলেই মনে করেন তিনি। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড ও আন্তোনিও নুসার মতো ফুটবলাররা ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়মিত খেলেন। তাই নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে তারা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
রেকডালের মতে, বর্তমান নরওয়ে দল ১৯৯৮ সালের দলের চেয়েও শক্তিশালী। বিশেষ করে হালান্ডের গোল করার সক্ষমতা, ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা এবং নুসার গতি ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
বর্তমানে নরওয়ের ক্লাব আলেসুন্দ এফকের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রেকডাল বিশ্বকাপে বিশ্লেষকের ভূমিকাও পালন করছেন। তাঁর বিশ্বাস, নরওয়ে আবারও ইতিহাস গড়তে পারে।
রেকডাল বলেন, “নরওয়ে ২–১ গোলে জিতবে। ফুটবলে ইতিহাস বারবার ফিরে আসে। এমনটা প্রায়ই ঘটে।”
Leave a comment