ভিএআরে বাতিল ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তের গোল, শেষ ষোলোয় পর্তুগাল
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তের সমতাসূচক গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়ায় ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত সময়ের ১৩তম মিনিটে যোশকো গাভার্দিওলের করা গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করেন রেফারি। ফলে ২–১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ক্রোয়েশিয়া।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইভান পেরিসিচের ক্রস থেকে গাভার্দিওল বল জালে পাঠালে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়েরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। তবে ভিএআরের পর্যালোচনায় দেখা যায়, বলটি পর্তুগালের একজন ডিফেন্ডারের কাছে যাওয়ার আগে ক্রোয়েশিয়ার ইগর মাতানোভিচের মাথায় সামান্য স্পর্শ লেগেছিল। সে সময় মারিও পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। পরে তাঁর কাছ থেকেই বল পেয়ে গোল করেন গাভার্দিওল। এ কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।
ম্যাচ শেষে ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, অ্যাডিডাসের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’-তে ব্যবহৃত ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’ এবং ‘ইনার্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট’ (আইএমইউ) সেন্সরের তথ্যের ভিত্তিতে মাতানোভিচের স্পর্শ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এ প্রযুক্তি প্রতি সেকেন্ডে শত শতবার তথ্য পাঠিয়ে ভিএআরকে দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
তবে এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়েরা। মিডফিল্ডার পিটার সুচিচ বলেন, রেফারি তাঁদের জানিয়েছেন, বলের সেন্সরের তথ্যের ভিত্তিতেই গোল বাতিল করা হয়েছে। তবে রিপ্লেতে তিনি মাতানোভিচের কোনো স্পর্শ দেখতে পাননি। তাঁর মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আরও সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা উচিত।
ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও ভিএআরের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি অনেক সময় ফুটবলের স্বাভাবিক আবেগকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। পরে ভিএআরের সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোল করেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের গোলে ২–১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পর্তুগাল এবং শেষ ষোলো নিশ্চিত করে।
Leave a comment