সিলেট থেকে গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব আয়োজিত ফল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এ মাসের মধ্যেই রেলওয়ের প্রকৌশলীরা সিলেটে আসবেন। প্রাথমিক যাচাই শেষে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করা হবে।
তিনি বলেন, রেললাইন চালু হলে জাফলং–সিলেট রুটে পণ্য পরিবহন সহজ ও ব্যয় সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীরা আরও সহজে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন আটকে ছিল। সার্ভেয়ারের সংকটের কারণে ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব হচ্ছিল। সম্প্রতি ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিলেটে ছয়জন সার্ভেয়ার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত শেষ করে মহাসড়কের নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট অথবা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কোনো একটি স্থানে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন।
তিনি জানান, জাফলং, রাতারগুল ও বিছনাকান্দিসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুতই এসব কাজ শেষ হবে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষকসংকট দূর করতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি তাপস দাশ পুরকায়স্থ ও আল আজাদ, সিনিয়র সহসভাপতি জামান মনির এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লিয়াকত শাহ ফরিদী।
Leave a comment