আজ ১ জুলাই। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় ‘জুলাই বিপ্লব’ তথা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী আজ থেকে শুরু হলো। ২০২৪ সালের আজকের এই দিনে (১ জুলাই) সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। যার ফলশ্রুতিতে অবসান ঘটে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের।
২০২৪ সালের ১ জুলাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামের নতুন প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করে। এই ঘোষণার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রধান প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সে সময় আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক (বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা) নাহিদ ইসলাম সমাবেশ থেকে আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কোটা পুনর্বহালের আইনি সুরাহা করতে হবে। একই দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রতীকী অবরোধ করেন। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আসেন।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে সরকার পতন: ৩৬ দিনের সেই উত্তাল ইতিহাস
• ১ জুলাই, ২০২৪: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে টানা ৩৬ দিনের কর্মসূচি শুরু।
• ১৫ জুলাই, ২০২৪: শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রূপ নেয় সহিংসতায়; বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা।
• ১৬ জুলাই, ২০২৪: রংপুরে আবু সাঈদসহ দেশজুড়ে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা, যা আন্দোলনকে দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়।
• জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ: দমন-পীড়নের মুখে কোটা সংস্কারের দাবি রূপ নেয় এক দফা অর্থাৎ সরকার পতনের আন্দোলনে।
• ৫ আগস্ট, ২০২৪: তীব্র ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা।
এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়। ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে পরিপত্র জারি করেছিল তৎকালীন সরকার।
তবে ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট ওই পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করলে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল হয়। এই রায়ের পরই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আবারও রাজপথে নামেন। শিক্ষার্থীরা আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা না করে কোটা বাতিলের নতুন নির্বাহী আদেশের দাবি জানান, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করে।
Leave a comment