ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা, পুলিশ সদস্যদের মারধর এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে সেনাবাহিনীর এক কর্নেল, এক মেজরসহ ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আথোলি পুলিশ স্টেশনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা চালানোর অভিযোগে ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র বলেন, বিষয়টি স্থানীয় পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-সংক্রান্ত। এটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের অভিযোগ, হামলায় আহতদের মধ্যে আথোলির উপ-পুলিশ সুপার (এসডিপিও) বিজয় কুমার ভগত এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) অমৃত কাটোচ রয়েছেন।
এফআইআরে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় অমৃত কাটোচ একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে থানার বাইরে ছিলেন। এ সুযোগে সেনা সদস্যরা থানায় প্রবেশ করে ভাঙচুর ও হামলা চালান। পরে তিনি থানায় ফিরে এলে তাঁকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
পুলিশের দাবি, মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা এসএইচওর ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলেন এবং এসডিপিওকে মারধর করেন। এতে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এফআইআর অনুযায়ী, হামলাকারীরা লোহার রড ও সরকারি অস্ত্র নিয়ে থানার মূল ফটক ও দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদেরও মারধর করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। ওই ঘটনার জের ধরেই সেনা সদস্যরা থানায় হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।
পুলিশ আরও দাবি করেছে, হামলাকারীরা থানার সম্পত্তি ও সরকারি যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এসএইচও ও এসডিপিওর সরকারি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি থানার প্রধান ফটক ভেঙে ফেলা হয়।
এফআইআরে পুলিশ উল্লেখ করেছে, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের গুরুতর ক্ষতি করা কিংবা হত্যা করার উদ্দেশ্যেই থানায় প্রবেশ করা হয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভি।
Leave a comment