দেশের প্রথম উপগ্রহ বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ থেকে গত পাঁচ অর্থবছরে ১৬৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে। একই সময়ে স্যাটেলাইটটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
সংসদে উপস্থাপিত বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০–২১ অর্থবছরে স্যাটেলাইটটি থেকে ৮৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং ২০২১–২২ অর্থবছরে ৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়। তবে ২০২২–২৩ অর্থবছরে ৭৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা নিট লোকসান হয়। এরপর ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ২৯ কোটি ৬৪ লাখ এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়।
২০২২–২৩ অর্থবছরে লোকসানের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, ওই বছরের ৩০ জুন স্যাটেলাইটের সম্পদ বিএসসিএলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। ফলে হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়ায় অবচয়মূল্য (ডিপ্রিসিয়েশন) অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কাগজে-কলমে লোকসান দেখা দেয়। তবে পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি আবার মুনাফায় ফিরে আসে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১-এর মাধ্যমে দেশের সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার, ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট-টু-হোম) এবং ভি-স্যাট সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশে ব্যান্ডউইথ বিক্রি ও জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা দিয়েও আয় করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২-কে পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী (আর্থ অবজারভেশন) উপগ্রহ হিসেবে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রসীমায় জাহাজ শনাক্তকরণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য নতুন করে ফিজিবিলিটি স্টাডির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের তিনটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রস্তাব বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ফলাফল পাওয়ার পর প্রকল্পের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি নথিতে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’-এর পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
Leave a comment