Home সাম্প্রতিক সুন্দরবনে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ, সক্রিয় চাঁদাবাজি চক্র
সাম্প্রতিক

সুন্দরবনে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ, সক্রিয় চাঁদাবাজি চক্র

Share
Share

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট


সুন্দরবনে বনজ ও মৎস্যসম্পদ আহরণকে কেন্দ্র করে রাজস্ব ফাঁকি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জেলে, বাওয়ালি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, অসাধু বনকর্মী, বনদস্যু ও প্রভাবশালী একটি চক্রের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত বনজীবীরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে কিছু বনজ সম্পদ আহরণে বিধিনিষেধ থাকলেও রাতের আঁধারে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, একটি চক্রের সহযোগিতায় বন থেকে এসব সম্পদ সংগ্রহ করে লোকালয়ে আনা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনে সম্পদ আহরণের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের পাস ইস্যু করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেই পাস ব্যবহার করে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি সম্পদ আহরণ করা হচ্ছে। এতে একদিকে বনাঞ্চলের ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন জেলে ও বাওয়ালি জানান, বৈধ পাস নিয়েও তাঁদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। বনাঞ্চলে প্রবেশ ও সম্পদ আহরণের সময় বিভিন্ন পক্ষকে অবৈধভাবে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয় বলে তাঁদের অভিযোগ। এর ফলে তাঁদের আয়ের বড় একটি অংশ অতিরিক্ত খরচে চলে যায়।

স্থানীয় বনজীবীদের ভাষ্য, বনদস্যুদের ভয়ভীতি ও প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। তাঁদের দাবি, এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সুবিধা আদায় করে আসছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, সুন্দরবনের বিশাল এলাকায় কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় অবৈধভাবে সম্পদ আহরণ ও পাচার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

বন ও পরিবেশ বিষয়ে কাজ করা কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, বনজীবীদের প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা, পারমিট প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড করা এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় বনজীবীদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে স্বচ্ছ রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তাঁরা।

সুন্দরবন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সম্পদ আহরণে অনিয়ম ও দুর্বল তদারকি অব্যাহত থাকলে বনটির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণে রাজস্ব আদায় ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

শুক্রবার টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না দেশের যেসব এলাকায়

গাছের শাখা-প্রশাখা কাটার জন্য শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজশাহী ও গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় টানা ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর)...

ইয়েমেনে প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদ লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২

ইয়েমেনের বন্দরনগরী ও অস্থায়ী রাজধানী এডেনে প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা। এতে দুই নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী...

Related Articles

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পেয়ে আল্লাহর কাছে বিচার দিলেন ছাত্রদল নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ...

আগামী বছর থেকে বিদ্যুৎ বিক্রি করার জায়গা পাওয়া যাবে না: চিফ হুইপ

আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিক্রি করার জায়গা পাওয়া যাবে না...

এখন থেকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাদকের আস্তানা ধ্বংস করবো: ইশরাক হোসেন

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মাদকের আস্তানাগুলো বাঁশের লাঠি দিয়ে গুঁড়িয়ে...

পদত্যাগের নির্দেশের গুঞ্জনের মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের বার্তা

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক...

;