২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চলে ব্যাপক দর্শক সমাগমের প্রস্তুতি চলছে। আয়োজকদের ধারণা, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১২ লাখ ফুটবলপ্রেমী এই অঞ্চলে আসতে পারেন।
এই বিপুল জনসমাগমকে ঘিরে হোটেল, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়িক তৎপরতা বেড়েছে। একই সঙ্গে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত সেবাভিত্তিক খাতেও চাহিদা বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাঁদের কাছে বুকিং ও অনুসন্ধানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কিছু সেবাদাতা দাবি করেছেন, বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আগের তুলনায় বেশি যোগাযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
তবে এ ধরনের দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্বকাপকে ঘিরে শুধু ব্যবসায়িক তৎপরতাই নয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিউ জার্সি স্টেট অ্যাসোসিয়েশন অব চিফস অব পুলিশের সভাপতি অ্যান্ড্রু ক্যাজিয়ানো বলেছেন, বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের সময় মানবপাচারকারীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। এ কারণে বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।
নিউ জার্সি স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রায় ১ হাজার ২০০ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানস্থলে নজরদারি বাড়ানো হবে।
এ ছাড়া মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক সতর্কবার্তায় বলেছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাড়তি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিয়ে যৌন ও শ্রম পাচারের ঘটনা বাড়তে পারে।
নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ডেভেনপোর্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসন বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে।
উল্লেখ্য, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৯ জুলাই ফাইনাল ম্যাচও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
Leave a comment