রাজধানীর ডেমরা এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের ভেতরে আড়াই বছরের এক কন্যাসন্তানকে ধর্ষণচেষ্টার এক জঘন্য ও বর্বরোচিত অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয়কে অবরুদ্ধ করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। শুক্রবার বিকেলে ডেমরার সারুলিয়া এলাকার শামসুল হক জেনারেল হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তের নাম নুর নবী (২০)। তিনি বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সিন্নিরচর গ্রামের মৃত শহীদ শিকারীর ছেলে। নুর নবী দীর্ঘদিন ধরে ওই বেসরকারি হাসপাতালেই ওয়ার্ড বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে ডেমরার সারুলিয়া এলাকার ‘শামসুল হক জেনারেল হাসপাতাল’ প্রাঙ্গণে আড়াই বছর বয়সী ওই অবুঝ শিশুটিকে একা পেয়ে কৌশলে ধর্ষণের চেষ্টা চালান নুর নবী। এই পৈশাচিক ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও নেটিজেনদের নজরে আসলে চারদিকে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। উত্তেজিত জনতা তাৎক্ষণিকভাবে ওই হাসপাতালে চড়াও হয়ে অভিযুক্ত নুর নবীকে ধরে গণধোলাই দেওয়ার পর ডেমরা থানা পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেয়।
এই জঘন্য ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ডেমরা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ নুর নবীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “একটি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সংস্থায় আড়াই বছরের এক নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য আচরণ আমাদের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের চরম সীমা নির্দেশ করে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধীকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। মামলা দায়েরের পরপরই আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
Leave a comment