অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে এক বহিরাগত ব্যক্তিকে হলের নিজ কক্ষে ডেকে এনে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের এক শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। বহিরাগত ওই ব্যক্তিকে নিয়ে হলে গুঞ্জন তৈরি হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং হল প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাস্টারদা সূর্যসেন হলে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে সূর্যসেন হল সংসদের পাঠাগার সম্পাদক মোহাম্মাদ ইমরান জানান, সকালে হলের এক আবাসিক কক্ষের সামনে অচেনা এক বহিরাগত ব্যক্তিকে দেখে সন্দেহ হয় অন্য শিক্ষার্থীদের। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভুলবশত তিনি নির্ধারিত কক্ষ ছেড়ে অন্য কক্ষের সামনে চলে এসেছিলেন। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের বার্তা তল্লাশি করে একটি বিশেষ ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের যোগাযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
বিষয়টি জানা মাত্রই হল প্রশাসনকে অবহিত করেন শিক্ষার্থীরা। সংবাদের প্রেক্ষিতে প্রাধ্যক্ষ ও হাউস টিউটররা এসে উভয়কে নিজ দপ্তরে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন। ঘটনার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাবি প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় দুইজনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে হল প্রশাসন।
জিজ্ঞাসাবাদকালে অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে সমকামিতার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রথাগতভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. রফিকুল ইসলাম। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে নানা আলোচনা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
Leave a comment