শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে উচ্চশিক্ষা অর্জন করা তিন নারী-পুরুষের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে দিনের দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেন। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নিয়োগপ্রাপ্ত তিন ব্যক্তি হলেন-গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়েশা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলী। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়োগপত্র পেয়ে তাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং দিনটিকে নিজেদের কর্মজীবনের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।
নিয়োগ পাওয়া আয়েশা আক্তার ও নীলা খাতুন দুজনই জন্মগতভাবে হাতবিহীন শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই হাত না থাকা সত্ত্বেও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করা নীলা খাতুনকে মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা আয়েশা আক্তারকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়; হাত না থাকায় তিনি মুখ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন। অন্যদিকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপত্র প্রদানকালে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
Leave a comment