Home সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্যের ভিসা ওয়াচলিস্টে সাইলেন্ট সাসপেনশনের মুখে বাংলাদেশ,পাকিস্তান
সাম্প্রতিক

যুক্তরাজ্যের ভিসা ওয়াচলিস্টে সাইলেন্ট সাসপেনশনের মুখে বাংলাদেশ,পাকিস্তান

Share
Share

যুক্তরাজ্য সরকারের বিতর্কিত ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ বা জরুরি ভিসা স্থগিতাদেশ বর্তমানে চারটি দেশের ওপর বহাল রয়েছে। আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের নাগরিকদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এক নতুন ‘কমপ্লায়েন্স-নির্ভর’ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন, যা মূলত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য একটি ‘পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে কাজ করবে।

আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন ‘রেড-অ্যাম্বার-গ্রিন’ ফ্রেমওয়ার্ক যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। আগের নিয়মে ১০ শতাংশ ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার মেনে নেওয়া হলেও, নতুন নিয়মে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাহারের হার ৫ শতাংশের বেশি হলেই সেটিকে ‘রেড’ বা লাল তালিকাভুক্ত করা হবে।

তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘গ্রিন’ বা সবুজ তালিকায় থাকা, যার জন্য প্রত্যাহারের হার ৪ শতাংশের নিচে রাখতে হবে। কোনও বিশ্ববিদ্যালয় ‘রেড’ তালিকায় পড়লে সরাসরি লাইসেন্স বাতিল না হলেও, তাদের নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির কোটা অন্তত ১০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তার আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই নীতি ইতোমধ্যেই একটি ‘সাইলেন্ট সাসপেনশন’ বা নিরব স্থগিতাদেশ তৈরি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্য বলছে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর ভিসা প্রত্যাহারের হার বর্তমানে ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত তিন গুণ বেশি।

ফলে লাইসেন্স বাঁচানোর ভয়ে যুক্তরাজ্যের অনেক নামী বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ও ইসলামাবাদ থেকে নতুন শিক্ষার্থী নেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই এসব দেশ থেকে শিক্ষার্থী আসার হার নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।

ভিসা নীতি কঠোর করার পাশাপাশি আশ্রয়ের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এনেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। চলতি বছরের মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া ‘কোর প্রটেকশন’ স্ট্যাটাসের অধীনে, যারা বৈধ ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করবেন, তারা আর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবেন না। এর পরিবর্তে তাদের প্রতি ৩০ মাস অন্তর নবায়নযোগ্য একটি অস্থায়ী পারমিট দেওয়া হবে।

স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে হলে তাদের এখন টানা ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া, এই ক্যাটাগরিতে যারা কাজের অনুমতি পাবেন, তারা শুধুমাত্র উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন বা ডিগ্রি পর্যায়ের পেশায় কাজ করতে পারবেন, যা সাধারণ শ্রমবাজারে তাদের প্রবেশাধিকারের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

আগামী ২৮ মে শেষ হতে যাওয়া ‘ফ্যামিলি রিটার্নস’ কনসালটেশনের মাধ্যমে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, ১৮ মাসের এই পর্যবেক্ষণ পিরিয়ডে যারা কমপ্লায়েন্স বজায় রাখতে ব্যর্থ হবে, তাদের জন্য আনুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ অনিবার্য।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি চিন পিংয়ের বৈঠক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১৪ মে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন। দুই দিনের এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং-এর সঙ্গে তার বৈঠকে হরমুজ...

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৪৩ লক্ষ টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ

মো. আজিজুর রহমান, গোয়াইনঘাট:বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট সেক্টরের অধীনে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৪৩ লক্ষ...

Related Articles

ফেসবুকে ছাত্রদল নেতার ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ পোস্ট, অতঃপর…

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখে পোস্ট...

ভারতে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে মসজিদের ইমামকে হত্যা

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বেরিল্লিতে মাওলানা তৌসিফ রেজা নামক এক মসজিদের ইমামকে চলন্ত ট্রেন...

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে : জাফর আসাদি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের খাতাম...

নিষিদ্ধ শূকরের মাংসও আমদানির চুক্তি করে গেছেন ড. ইউনূস

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. ইউনূস সরকারের স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেশে বিতর্ক...