দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। সকাল ৭টা থেকেই কড়া নিরাপত্তা এবং ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এবং নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
প্রথম দফায় রাজ্যের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলার ৫৪টি আসন এবং দক্ষিণবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের ৮টি জেলার ৯৮টি আসনে আজ ব্যালট বা ইভিএমে ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে প্রার্থীদের।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই দফায় প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট প্রার্থী সংখ্যা ১৪৭৬ জন, যার মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি লড়াইকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে।
এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই দফায় ২,৪০৭ কোম্পানিরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যার অর্থ প্রায় ৩ লক্ষাধিক জওয়ান আজ রাজ্যের নিরাপত্তা রক্ষা করছেন।
স্পর্শকাতর বুথগুলোতে ড্রোন নজরদারি ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এত বিশাল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি। প্রতিটি মোড়ে নাকা চেকিং এবং রুট মার্চের মাধ্যমে ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।
নির্বাচনি প্রচারের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাগযুদ্ধে সরগরম ছিল রাজনৈতিক ময়দান। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝোড়ো প্রচার চালিয়েছেন। তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে অনুপ্রবেশ সমস্যা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রাজ্য প্রশাসনের দুর্নীতির প্রসঙ্গ। বিজেপি এই নির্বাচনে ‘পরিবর্তন’ ও ‘প্রশাসনিক স্বচ্ছতা’কে প্রধান অস্ত্র করেছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বময় নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি লড়াইয়ের ময়দান সাজিয়েছেন ‘বাঙালি অস্মিতা’ বা আঞ্চলিক আত্মসম্মানের ধারণায়। তার প্রচারের মূল সুর ছিল— বাইরের শক্তির হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করা এবং নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার এই ১৫২টি আসনই নির্ধারণ করে দিতে পারে বিধানসভার চূড়ান্ত সমীকরণ। বিশেষ করে জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের আসনগুলোতে কোন দল আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে, তার ওপর নির্ভর করছে নবান্নের দখল কার হাতে যাবে। ভোটার উপস্থিতির হার এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো দেশ। আজকের এই মহাযুদ্ধে বাংলার জনগণ কাকে বেছে নেয়, তা সময়ই বলে দেবে।
Leave a comment