ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের তীর্থস্থান ঋষিকেশে পরিচয় গোপন করে অবৈধভাবে বসবাস করার অভিযোগে সানিউর রহমান নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সানিউর রহমান ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের একজন সক্রিয় ব্লগার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরাখণ্ড সরকারের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন কালনামী’-র অংশ হিসেবে লক্ষ্মণ ঝুলা এলাকা থেকে সানিউরকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে ‘সত্যনিষ্ঠা আর্য’ পরিচয় দিয়ে সাধু হিসেবে বসবাস করছিলেন। তিনি ধর্মীয় ও দার্শনিক বক্তৃতার মাধ্যমে স্থানীয় ভক্তদের প্রভাবিত করতেন বলে জানা গেছে। তবে নিয়মিত পুলিশি তল্লাশির সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি আসল পরিচয় দিতে বাধ্য হন।
তদন্তে জানা গেছে, সানিউরের বাড়ি বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। ২০১৬ সালে নেপাল সীমান্ত দিয়ে তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নাম পরিবর্তন করে একটি ভুয়া আধার কার্ড তৈরি করেন। তার কাছ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ বেশ কিছু বিতর্কিত নথি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সানিউর ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং ‘বিদেশি আইন ২০২৫’-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় অভিযুক্ত হয়েছেন।
সানিউর রহমানের জীবনযাত্রার নাটকীয় পরিবর্তন গোয়েন্দা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ২০১৩ সালে শাহবাগের নাস্তিক ব্লগার হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি ভারতে গিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী আদর্শ গ্রহণ করেন। গত বছর বড়দিনের সময় স্থানীয় একটি গির্জায় গিয়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে বাধা দিয়ে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন।
ঋষিকেশ পুলিশ জানিয়েছে, সানিউরের কার্যক্রম এবং কোনো সন্ত্রাসী বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তার তৈরি ভুয়া নথি ও দীর্ঘমেয়াদী আত্মগোপনের নেপথ্যে বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়।
Leave a comment