নাটোরের নলডাঙ্গায় একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে সংসদের সরকারদলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে ধানের শীষের স্বর্ণের কোট-পিন পরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় নলডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খাঁন নিজ হাতে ওই পিন পরিয়ে দেন।
উপজেলার শ্রীশচন্দ্র বিদ্যানিকেতনের বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে হুইপকে এ কোট-পিন উপহার দেওয়া হয়। শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ ঘটনা সামাজিক ও প্রশাসনিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধি অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমীচীন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও আল এমরান খাঁন গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট নয়’। তিনি দাবি করেন, তিনি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং আগাম কিছু জানতেন না। হঠাৎ মাইকে তার নাম ঘোষণা করা হলে তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। “আমার হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল না, নিরুপায় হয়েই কাজটি করেছি,” বলেন তিনি।
এদিকে, স্বর্ণের পিনটির ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াসিন আলী জানান, পিনটি তৈরিতে প্রায় ২৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা স্কুলের ফান্ড থেকে বহন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবর্ধনা হিসেবে উপহারটি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “হুইপকে সন্তুষ্ট করার জন্য এটি দেওয়া হয়েছে,” এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রয়োজনে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে স্কুলের তহবিল থেকে এ ধরনের উপহার দেওয়া কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, শ্রীশচন্দ্র বিদ্যানিকেতন একটি বেসরকারি এমপিওভুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৪৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠায় হুইপের পরিবারেরও ভূমিকা ছিল।
Leave a comment