মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের সংঘাত নিরসনে যখন ওয়াশিংটনে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে ব্যাপক রকেট হামলা চালিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালের এই হামলায় অন্তত ৪০টি রকেট ছোড়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেটগুলো ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তামরা শহরের কাছে রকেটের শ্র্যাপনেল বা স্প্লিন্টারের আঘাতে ৬১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আইডিএফ জানায়, প্রতিদিন হিজবুল্লাহ শত শত রকেট নিক্ষেপ করলেও এর সিংহভাগই দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে। তবে বুধবারের হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রকেট সীমান্ত অতিক্রম করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়ে।
মর্মান্তিক এই হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যার মাত্র একদিন আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বিরল ও ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কয়েক দশকের শত্রুতা ভুলে একটি টেকসই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। তবে শুরু থেকেই হিজবুল্লাহ এই শান্তি আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার টেবিলে অগ্রগতির খবর পাওয়ার পরপরই নিজেদের শক্তি প্রদর্শন এবং শান্তি প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতেই এই মুহুর্মুহু রকেট হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বৈরুত প্রশাসন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালেও, বাস্তবে তাদের সেই সক্ষমতা নিয়ে ইসরায়েল যথেষ্ট সন্দিহান। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, লেবানন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে হিজবুল্লাহর এই নিয়মিত হামলা প্রমাণ করে যে সীমান্ত অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরানো এখনও অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।
এই রকেট হামলার পর ইসরায়েল পাল্টা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে শান্তি আলোচনার এই স্পর্শকাতর সময়ে এমন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতাকে আবারও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
Leave a comment