তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক কিশোর শিক্ষার্থীর অতর্কিত গুলিবর্ষণে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর হামলাকারী শিক্ষার্থী নিজেও আত্মহত্যা করেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইউরোনিউজের তথ্যানুসারে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী এই তাণ্ডব চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর তার বাবার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। সে একটি স্কুল ব্যাগে করে একাধিক অস্ত্র ও পর্যাপ্ত গোলাবারুদ লুকিয়ে এনেছিল। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলাকালীন সে হঠাৎ দুটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে এবং উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।
স্থানীয় গভর্নর মুকেরেম উনলুয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলেই শিক্ষকসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, যার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলার তাণ্ডব চালিয়ে কিশোর হামলাকারী নিজেও ঘটনাস্থলে আত্মঘাতী হয়।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা সিফচি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক বলে অভিহিত করেছেন। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এটি কোনো পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা নয়। বরং হামলাকারীর ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ বা মানসিক অস্থিরতা থেকে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘাতক কিশোরের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে এবং কীভাবে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পেল, তা খতিয়ে দেখছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তুরস্ক জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে স্কুলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার দাবি তুলেছেন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজ। সরকার নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং এই ট্র্যাজেডি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
Leave a comment