শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশের একাধিক ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের নিট পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ। সংগঠনটির দাবি, এসব ধারা সংশোধিত শ্রম আইনে বহাল থাকলে শিল্পকারখানায় মালিক-শ্রমিক বিরোধ বাড়বে এবং উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে।
রোববার রাজধানীর বাংলামটরে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সিনিয়র সহসভাপতি অমল পোদ্দারসহ অন্য নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে শ্রমিকের সংজ্ঞা, যৌথ দরকষাকষির প্রতিনিধিত্ব, শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ তহবিল ও চাকরি অবসান সংক্রান্ত ধারাগুলোর সমালোচনা করা হয়। এসব ধারা সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অধ্যাদেশ জারির আগে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদ (টিসিসি)-তে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু প্রকাশিত গেজেটে দেখা যায়, সেই সিদ্ধান্তের বাইরে অতিরিক্ত কিছু ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি।
শ্রমিকের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন অধ্যাদেশে উৎপাদনশীল শ্রমিকদের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নিম্ন মজুরির শ্রমিকদের সঙ্গে উচ্চ বেতনের কর্মকর্তারাও একই সুবিধা দাবি করতে পারবেন, যা শিল্প খাতে বিভ্রান্তি তৈরি করবে এবং বিদেশি ক্রেতাদের অডিটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চাকরির অবসান সংক্রান্ত বিধানেও আপত্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, টিসিসিতে যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, অধ্যাদেশে তা পরিবর্তন করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এতে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে।
যৌথ দরকষাকষির প্রতিনিধি (সিবিএ) সংক্রান্ত ধারা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের মতে, নতুন বিধান অনুযায়ী একটি ট্রেড ইউনিয়নকে সরাসরি প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ থাকায় শ্রমিকদের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
এছাড়া শ্রমিক হয়রানির অভিযোগের ক্ষেত্রে মালিক পক্ষকে নির্দোষ প্রমাণের দায় চাপানো, ভবিষ্যৎ তহবিল ও প্রসূতি কল্যাণ সংক্রান্ত বিধানসহ বিভিন্ন বিষয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা মনে করছেন, এসব ধারা সংশোধন না করা হলে পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং শিল্পে অস্থিরতা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
Leave a comment