জার্মানির লাইপজিগ শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি ব্যক্তিগত খামারের, খাঁচা থেকে পালিয়ে যাওয়া একটি বাঘের আক্রমণে তার এক রক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সশস্ত্র পুলিশের গুলিতে বাঘটি নিহত হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি বন্যপ্রাণীর ব্যক্তিগত মালিকানা এবং তাদের রাখার পরিবেশ নিয়ে জার্মানিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, গত রোববার স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে তারা একটি জরুরি ফোন কল পান। জার্মানির শ্কিউডিৎস শহরের কাছের একটি শিল্প এলাকায় অবস্থিত ওই ব্যক্তিগত খামারে ৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ রক্ষক বাঘটির খাঁচার ভেতরে থাকাকালীন হঠাৎ আক্রমণের শিকার হন। বাঘের থাবায় তিনি গুরুতরভাবে জখম হন। আক্রমণের পরপরই হিংস্র প্রাণীটি তার খাঁচা ভেঙে বাইরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
খবর পেয়ে পুলিশের বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সশস্ত্র কর্মকর্তারা পলাতক পুরুষ বাঘটিকে খুঁজে পান। বাঘটি লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসায় এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় কর্মকর্তারা সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। পুলিশের গুলিতে বাঘটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। বাঘটি কীভাবে খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ধারণা করা হচ্ছে, নিহত বাঘটির মালিক বিতর্কিত বন্যপ্রাণী প্রশিক্ষক কারমেন জ্যান্ডার, যিনি নিজেকে জার্মানির ‘টাইগার কুইন’ বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই শিল্প এলাকায় কারমেনের মালিকানাধীন মোট আটটি বড় বিড়াল প্রজাতির (বাঘ ও সিংহ) হিংস্র বন্যপ্রাণী ছিল, যার মধ্যে নিহত বাঘটি একটি। তবে এই ঘটনার পর খামারের অন্য কোনো প্রাণী বাইরে পালিয়ে যায়নি। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুরো এলাকাটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত কি না তা যাচাই করতে পুলিশ ড্রোনের সাহায্যে তল্লাশি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে।
এই ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলা মেয়র টমাস ড্রুসকাট। তিনি বাকি বন্যপ্রাণীগুলোকে দ্রুত ওই স্থান থেকে নিরাপদ ও উপযুক্ত কোনো অভয়ারণ্যে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “বাঘটি যদি আরও জনবহুল এলাকায় চলে যেত এবং অন্য কেউ আহত হতো, তবে কী মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতো ।”
এদিকে খামারের নিকটবর্তী বাসিন্দারা ডয়চে প্রেস-এজেন্টুর (ডিপিএ)-কে জানিয়েছেন, আবাসিক ও শিল্প এলাকার এত কাছে হিংস্র বাঘ রাখার এই ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক। তাদের অভিযোগ, প্রাণীগুলোকে সেখানে উপযুক্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখা হয়নি। আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার সংস্থা ‘পেটা’ (PETA) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জার্মান সরকারকে অবিলম্বে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য আরও কঠোর আইনি নিয়মকানুন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
অবশ্য জ্যান্ডারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ প্রাণীবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাঘগুলোর যত্ন নেওয়া হতো। এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের জন্য বিবিসির পক্ষ থেকে কারমেন জ্যান্ডারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a comment