যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরান। রোববার দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তরের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান সাইয়্যেদ মেহদি তাবাতাবায়ী এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ট্রানজিট ফির ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হবে, যার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাবাতাবায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, প্রণালি বন্ধের কারণে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, তা হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।
এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশনও ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে। এক বার্তায় তারা অভিযোগ করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বেসামরিক জনগণের জীবনের জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
ইরানি মিশন আরও বলেছে, জাতিসংঘ যদি তার নৈতিক দায়িত্ব পালন করত, তাহলে এমন প্রকাশ্য হুমকির বিরুদ্ধে নীরব থাকত না। তাদের ভাষায়, এ ধরনের বক্তব্য অঞ্চলটিকে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিত বহন করে এবং এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইরান বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, নচেৎ পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই হরমুজ প্রণালির বর্তমান সংকট নিরসনে যুদ্ধবিরতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি বলেন, নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হলে সংঘাতের অবসানই একমাত্র কার্যকর সমাধান।
Leave a comment