কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান বা ‘ফেরা’ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই শীর্ষ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং মাহফুজ আলমের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের দুটি ভিন্নধর্মী স্ট্যাটাস দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আজ বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র বার্তায় সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, “আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি। তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।” আসিফ নজরুলের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে যে, আওয়ামী লীগ কখনোই পুরোপুরি দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যায়নি, বরং তাদের চিরচেনা রাজনৈতিক দাম্ভিকতা এবং প্রচারকৌশল নতুন করে মাথাচারা দিয়ে উঠেছে।
ড. আসিফ নজরুলের এই প্রতিক্রিয়ার ঠিক আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের আরেক সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আওয়ামী লীগের এই ‘ফেরা’র নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করে ফেসবুকে একটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট দেন। ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেছে, দেখো নাই?’—এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মাহফুজ আলম লিখেছেন, “লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।”
মাহফুজ আলম তার পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা, মব জাস্টিস, উগ্রবাদের উত্থান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আপসকামী ভূমিকাকে আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য দায়ী করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যেদিন থেকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে একাত্তরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে এবং দেশের আইনের শাসনের বদলে ‘মবের শাসনে’ (Mob Rule) গত ১৭ বছরের মজলুমরা আনন্দ পেয়েছে, সেদিনই মূলত লীগ ব্যাক করেছে। মাজার ও মসজিদে হামলা, হিন্দুদের ওপর নিপীড়নে নীরবতা এবং সেকুলার মূল্যবোধের মানুষদের মধ্যে সরকারের মদদে ডানপন্থার উত্থানের ভীতি তৈরি হওয়ার মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভিত্তি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।
সাবেক এই উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলাতান্ত্রিকতা এবং ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা অভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারকদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরীণ সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলো এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলো। যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামায়াত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল। যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল, নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের মূল ঘোষণাপত্র আমলাতন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া, নির্বাচন নিয়ে সংস্কারের প্রশ্নে আপস করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও ট্রাইব্যুনালগুলোকে নির্দিষ্ট আদর্শের লোকদের ক্ষমতারোহণের হাতিয়ার বানানোর মাধ্যমেই মূলত আওয়ামী লীগের সেই পুরনো ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
Leave a comment