মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে ইরানকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করতে রাশিয়া ড্রোন ও অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র সরবরাহ শুরু করছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রগুলো দাবি করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তার আড়ালে মস্কো এখন সরাসরি তেহরানকে প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম প্রদানের পরিকল্পনা করছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মিত্র ইরানকে কৌশলগত সুবিধা দিতেই ক্রেমলিনের এই উদ্যোগ।
পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পরপরই ড্রোন সরবরাহ নিয়ে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের গোপন আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট চিত্র, লক্ষ্য নির্ধারণ সংক্রান্ত ডেটা এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করলেও সরাসরি ড্রোন সরবরাহ হবে তাদের প্রথম বড় ধরনের সামরিক সহায়তা। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া যে ধরনের ড্রোন পাঠাতে পারে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ধ্বংসাত্মক ‘গেরান-২’ এবং ‘শাহেদ-১৩৬’ কামিকাজে ড্রোন।
তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে। ক্রেমলিন প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র মানবিক কারণে আজারবাইজানের মাধ্যমে তেহরানে ১৩ টনেরও বেশি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে মস্কোর সাথে যোগাযোগ করা হলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তর সরাসরি সামরিক সহায়তার বিষয়টি নাকচ করে দেয়।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বুধবার এই প্রতিবেদনের বিষয়ে বলেন, “বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। তবে একটি বিষয় সত্য যে, ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সংলাপ ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত বছর দুই দেশ একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করলেও তাতে সরাসরি প্রতিরক্ষা সহায়তার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই সম্ভাব্য ড্রোন সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে ইরানের আকাশসীমা প্রতিরক্ষা এবং পাল্টা আক্রমণে রুশ প্রযুক্তির ব্যবহার ইসরায়েল ও তার মিত্রদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
Leave a comment