Home আন্তর্জাতিক ৯৯.৯৩% ভোট পেয়ে তৃতীয় মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন
আন্তর্জাতিক

৯৯.৯৩% ভোট পেয়ে তৃতীয় মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন

Share
Share

উত্তর কোরিয়ার তথাকথিত ‘রাবার-স্ট্যাম্প’ পার্লামেন্ট হিসেবে পরিচিত সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে পুনরায় দেশটির শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন কিম জং উন। একটি সুপরিকল্পিত ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থার প্রধান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিমের এই পুনর্নির্বাচন মূলত “সকল কোরীয় জনগণের সর্বসম্মত ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ”। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো কিম রাজবংশের দীর্ঘকালীন একচ্ছত্র শাসনকে একটি কৃত্রিম গণতান্ত্রিক বৈধতা দেওয়া। সাধারণত ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির তৈরি করা নীতিগুলো এই পার্লামেন্টে কেবল আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্যই উত্থাপিত হয়।

পুনর্নির্বাচনের পর ৪০ বছর বয়সী কিম জং উনকে “বিশিষ্ট চিন্তাবিদ” এবং “রাষ্ট্র গঠনের মহান কৌশলবিদ” হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। মানসুদা অ্যাসেম্বলি হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কিম জং উনকে চিরাচরিত ঢিলেঢালা পোশাকের বদলে পশ্চিমা স্যুট ও টাই পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। ২০১১ সালে বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হওয়া কিম এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার ১৫ বছরের শাসনকালকে আরও দীর্ঘায়িত করলেন।

এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ৬৮৭টি আসনের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে। তবে মজার বিষয় হলো, ২০১৯ সালের নির্বাচনে যেখানে ভোটের হার ছিল ৯৯.৯৯ শতাংশ, এবার তা সামান্য কমে ৯৯.৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ০.০৭ শতাংশ নেতিবাচক ভোট বা অনুপস্থিতি দেখানোর মাধ্যমে পিয়ংইয়ং বিশ্বকে এটি বোঝাতে চাইছে যে, দেশটিতে সীমিত আকারে হলেও ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ রয়েছে—যা মূলত একটি কৃত্রিম জনমত তৈরির কৌশল।

কেসিএনএ জানিয়েছে, পার্লামেন্টের এই অধিবেশনে ২০২৬ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেট এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্ভাব্য সংবিধান সংশোধনী। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংশোধনীর মাধ্যমে কিম জং উনের সাম্প্রতিক ‘দুই শত্রু রাষ্ট্র’ নীতিকে সাংবিধানিক রূপ দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, কিম সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ একত্রীকরণের লক্ষ্য ত্যাগ করে দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের প্রধান শত্রু হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

অধিবেশনের একটি উল্লেখযোগ্য ও রহস্যময় দিক ছিল কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং-এর অনুপস্থিতি। ২০২১ সাল থেকে তিনি দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব সংস্থা ‘স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশন’-এর সদস্য ছিলেন। তবে এবারের নতুন তালিকায় তার নাম না থাকা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

কূটনৈতিক সমাধানে প্রস্তুত ইরান, হামলা হলে ‘ভয়াবহ জবাব’: আব্বাস আরাঘচি

চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উপায়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান সম্পূর্ণ আন্তরিক বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে দেশের...

মাদরাসার নামে ভুয়া রশিদ বই ছাপিয়ে টাকা আদায়, হাতেনাতে আটক ৩

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে অভিনব কায়দায় অর্থ আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। বিভিন্ন মাদরাসার নামে ভুয়া রশিদ বই ছাপিয়ে...

Related Articles

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ৩

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে...

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হলেন মিঠুন চক্রবর্তী

  ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিনেতা মিঠুন...

স্কুলের ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে ভারতে ৪ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ঐতিহাসিক মথুরায় একটি আবাসিক স্কুলের (গুরুকুল) ভূগর্ভস্থ জলের ট্যাংক পরিষ্কার...

কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখেও নতি স্বীকার করবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক যুদ্ধের সর্বগ্রাসী প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে...

;