মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে। কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার (৪ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ইরান থেকে কাতারের দিকে দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর একটি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করে। অপর ক্ষেপণাস্ত্রটি কাতারের আল-উদাইদ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির নিকটবর্তী স্থানে আঘাত হানে।
কাতারের আল-উদাইদ, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে হাজারো মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং অঞ্চলজুড়ে সামরিক অভিযান পরিচালনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ঘাঁটির আশপাশে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছিল। কাতারের এই ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল। এর আগে ওমান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা ও সামরিক অবকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এবার কাতার সরাসরি হামলার মুখে পড়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের ধারাবাহিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। কাতার সরকার ঘটনার পরপরই উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক আহ্বান করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
Leave a comment