চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে গলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শিশুটি অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোররাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত শিশুটির চাচা মো. রমিজ। তিনি জানান, উদ্ধারের পর থেকেই শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা চলছিল।
এর আগে রোববার সকালে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক-এর ভেতর থেকে গলাকাটা অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। তারা পার্কের একটি নির্জন স্থানে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে পাঠান।
পরে শিশুটিকে তার মা-বাবার সঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার গলায় গভীর ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল, যা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
ঘটনার দিন রাতেই শিশুটির মা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বাড়ি কুমিরা ইউনিয়নের মছজিদদা (মাস্টারপাড়া) এলাকায়। সেখান থেকে ইকোপার্কের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এত কম বয়সী একটি শিশু একা কীভাবে ইকোপার্কের গভীরে পৌঁছাল—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাকে কেউ প্রলোভন দেখিয়ে বা জোর করে নিয়ে গেছে কি না, কিংবা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। শিশুটির পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে
Leave a comment