ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আটক করার পর এবার কিউবার দিকে নজর ঘুরিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা যেন দ্রুত ‘সমঝোতায় আসে’, নইলে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
ট্রাম্প লিখেছেন,“কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থে টিকে ছিল। বিনিময়ে তারা ভেনেজুয়েলার শেষ দুই স্বৈরশাসকের জন্য নিরাপত্তা সেবা দিয়েছে। কিন্তু এখন আর তা চলবে না।”
তিনি আরও বলেন,“কিউবায় আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না—শূন্য! আমি জোর দিয়ে বলছি, সময় থাকতে তারা যেন সমঝোতায় আসে।”
তবে এই ‘সমঝোতা’ বলতে তিনি কী বোঝাচ্ছেন বা কিউবা তা না মানলে কী ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে—সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
৩ জানুয়ারি মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকেই কিউবার ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করে ওয়াশিংটন। কিউবা ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের মিত্র এবং দেশটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল পেত বলে ধারণা করা হয়।
ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার ফলে কিউবায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে আসা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল বহনকারী একটি ট্যাংকার জব্দ করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে হাভানা। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন,“কিউবা যেকোনো আগ্রহী দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির পরম অধিকার রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপ বা হস্তক্ষেপ আমরা মেনে নেব না।”
তিনি আরও বলেন,“কিউবা কখনোই ব্ল্যাকমেইল বা সামরিক চাপের কাছে মাথা নত করে না।”
এদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল বলেন,“যারা মানবজীবনকেও ব্যবসার পণ্য বানায়, তাদের কিউবাকে নিয়ে নৈতিক ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।”
তিনি অভিযোগ করেন, কিউবার সার্বভৌমভাবে নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তেই ক্ষুব্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এবং মাদুরোকে আটক করার পর কিউবার ওপর এই চাপ লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের হুমকি কিউবার জন্য অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট আরও গভীর করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
Leave a comment