সরকারি সেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ডিজিটাল আইডি’—একটি অনলাইনভিত্তিক পরিচয় ব্যবস্থা, যা চালু হলে নাগরিকরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সরকারের দাবি, এই প্রযুক্তি চালু হলে দীর্ঘ সময় ফোনে অপেক্ষা, জটিল কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং একই তথ্য বারবার দেওয়ার মতো ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
ডিজিটাল আইডি মূলত একটি অনলাইন পরিচয়পত্র, যা মোবাইল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত থাকবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা সহজেই নিজের পরিচয় যাচাই করতে পারবেন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
বর্তমানে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়—দীর্ঘসূত্রতা, কাগজপত্রের জটিলতা ও একাধিকবার তথ্য প্রদান—এই নতুন ব্যবস্থায় সেগুলো অনেকটাই সহজ হয়ে আসবে বলে আশা করছে সরকার।
ডিজিটাল সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে “গভর্নমেন্ট বাই অ্যাপ” নামে একটি অ্যাপ চালু করেছে। ভবিষ্যতে এই অ্যাপের মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই একাধিক সরকারি সেবা পাওয়া যাবে।
সম্ভাব্য সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- পরিচয় যাচাই
- চাকরির জন্য ‘রাইট টু ওয়ার্ক’ যাচাই
- বিভিন্ন সরকারি আবেদন প্রক্রিয়া
- ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই
- দ্রুত অনলাইন ভেরিফিকেশন
এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিজিটাল আইডি চালুর আগে জনগণের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৮ সপ্তাহব্যাপী একটি পাবলিক কনসাল্টেশন শুরু হয়েছে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১০০ জনের একটি ‘পিপলস প্যানেল’ গঠন করা হবে, যারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখবেন। যেমন—
- কোন বয়স থেকে ডিজিটাল আইডি দেওয়া হবে
- আইডিতে কী ধরনের তথ্য থাকবে
- কোন কোন সেবা এতে যুক্ত করা হবে
প্রথমদিকে ডিজিটাল আইডি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থাকলেও সমালোচনার মুখে সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি বাধ্যতামূলক নাও হতে পারে; বরং পাসপোর্ট বা ই-ভিসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
সরকার ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম, জনমত সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন শেষে ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে এই ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ডিজিটাল আইডি নিয়ে যেমন আশাবাদ রয়েছে, তেমনি উদ্বেগও কম নয়। সমালোচকদের আশঙ্কা—
- ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে
- সরকারি নজরদারি বাড়তে পারে
- প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে সেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে
অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, এটি ভবিষ্যতের আধুনিক ও দক্ষ সরকারি সেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
বিশ্লেষকদের মতে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ডিজিটাল আইডি যুক্তরাজ্যের সরকারি সেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
Leave a comment