একসময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বরিশালের বাসভবন ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ ছিল দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। তবে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার দাবি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি ভবনটি বিরোধী ও দলীয় ভিন্নমতাবলম্বীদের নির্যাতনের স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।
স্থানীয় সূত্র এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক সাবেক নেতার অভিযোগ, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর এই বাসভবন থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এছাড়া তার ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকাকালে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বৈঠকও এই ভবনে অনুষ্ঠিত হতো।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা গণমাধ্যমকে অভিযোগ করে বলেন, ‘সেরনিয়াবাত ভবনে বহু প্রতিশ্রুতিশীল রাজনৈতিক নেতার ভবিষ্যৎ কবর হয়েছে। যারা নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলেন, কেবল তারাই এখান থেকে সুবিধা পেয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন পর্যন্ত এই ভবনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর দাবি করেন, ভবনটি টর্চার সেল হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এখানে একাধিক কাউন্সিলরকে মারধর করা হয়েছে। এমনকি সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তাকেও ভবনের ভেতরে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাশের একটি ক্লাবে কয়েক দিন চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর বাড়ি যেতে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাষ্য, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাধারণ নেতাকর্মীদের সহজে দেখা করার সুযোগ ছিল না। তারা চাইলে তবেই সাক্ষাতের সুযোগ মিলত এবং পুরো পরিবার রাজকীয় জীবনযাপন করত বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে, গত বছরের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দৃশ্যপট বদলে গেছে। একসময় ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সেরনিয়াবাত ভবন এখন প্রায় পরিত্যক্ত। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটিতে কোনো কার্যক্রম নেই, রাতে আলোও জ্বলে না। অযত্নে ভবনের চারপাশে জঙ্গল গজিয়েছে এবং এটি এখন শিয়াল-কুকুরের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।
তবে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাজু/নিএ
Leave a comment