হামাসের সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের চরম প্রতিশোধ নেওয়ার জোরালো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শক্তিশালী এই সামরিক সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই প্রতিশোধ হবে অত্যন্ত “কঠোর ও নিষ্পেষণকারী”।
রবিবার (২ আগস্ট) ইসমাইল হানিয়া হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে আইআরজিসি নিজেদের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা’র প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরকারি সম্মানিত অতিথি হিসেবে অংশ নিতে এসে গুপ্তহত্যার শিকার হন হানিয়া। আইআরজিসি এই জঘন্য ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন, ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে। সংস্থাটি দাবি করে, হানিয়াকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিরোধ আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যায়নি, বরং এটি ফিলিস্তিনিদের মুক্তির সংগ্রামকে আরও বেগবান করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন বৃদ্ধি করেছে।
বিবৃতিতে গাজায় পরিচালিত ইসরায়েলি গণহত্যা, দক্ষিণ লেবাননে সংঘাতের বিস্তার এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে ইসরায়েলকে একটি ‘সন্ত্রাসী ও অপরাধী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে অন্ধ সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করে সংস্থাটি। তাদের মতে, এই মার্কিন মদদ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার শামিল।
আইআরজিসি আরও উল্লেখ করে, ইসমাইল হানিয়া, আয়াতুল্লাহ খামেনি, হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান সাইয়েদ হাসান নাসরাল্লাহ এবং জেনারেল কাসেম সোলেইমানির মতো শীর্ষ নেতাদের আত্মত্যাগ ফিলিস্তিন মুক্তিকামী জনগণের কাছে ‘প্রতিরোধের মূল প্রতীক’ হয়ে থাকবে। হামাসকে অস্ত্রসংবরণ করানোর যেকোনো পশ্চিমা চক্রান্তকে প্রত্যাখ্যান করে সংস্থাটি জানায়, হানিয়া ও খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার এবং তা হবে পুরোপুরি “অনিবার্য”।
Leave a comment