হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে মার্কিন কর্মকর্তাদের পাঠানোর সিদ্ধান্তকে বড় কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে, কৌশলগত এই নৌপথ এখনও দর-কষাকষির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে অসংলগ্নতা ও অবস্থান পরিবর্তনের বিপরীতে ইরান তুলনামূলকভাবে শান্ত ও কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এতটাই গভীর যে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের ‘অবাস্তব দাবি, অবস্থান পরিবর্তন ও নৌ অবরোধ’ অব্যাহত থাকায় তেহরান আপাতত আলোচনায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের শামিল।
পরবর্তী দফার আলোচনার আগে ইরান তিনটি শর্ত সামনে এনেছিল—লেবাননে যুদ্ধবিরতি, ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়ার অগ্রগতি। মধ্যস্থতাকারীরা এটিকে ধাপে ধাপে আস্থা তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলেও বাস্তবে সেই অগ্রগতি হয়নি।
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর অবরোধ বহাল রাখা এবং একই সঙ্গে ইরানকে নৌ চলাচলে শিথিলতার দাবি করার পর তেহরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বহাল থাকবে।
ইরানি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ বা ‘মিথ্যা’ বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তারা কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল সংকট—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি—এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এ অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ সমাধানের বদলে একটি কাঠামোগত চুক্তির মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর পথ খোঁজা হতে পারে, যেখানে ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ খোলা থাকবে।
Leave a comment