সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরের তীর থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। বুধবার তাঁকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
নিহত দুই শিশু হলো দিরাই উপজেলার পেরুয়া-মধুপুর গ্রামের কামরুল হাসানের ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাদ্দিস ও চার বছর বয়সী মেয়ে তুলনা আক্তার।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল জানিয়েছেন, বাড়ি ফেরার পথে প্রথমে শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের কাছে হাওরে এক সন্তানকে এবং পরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কাছে দেখার হাওরে অপর সন্তানকে পানিতে ফেলে দেন। এর আগে দুই শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার স্ত্রী ফুলজান নেসার সঙ্গে ঝগড়া করে দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেটে চলে যান ফেরিওয়ালা কামরুল। সেখানে দুই দিন থাকার পর রোববার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তবে সোমবার রাতে বাড়ি ফিরলেও তাঁর সঙ্গে দুই সন্তান ছিল না।
বাড়ি ফিরে ফেসবুক লাইভে দুই সন্তান হারিয়ে গেছে বলে জানান কামরুল। স্বজনেরা জানান, এরপর তাঁর আচরণ ও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা যায়।
এর মধ্যে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার দুটি পৃথক স্থান থেকে অজ্ঞাত দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কাছে দেখার হাওর থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুর লাশ সকালে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে পুলিশ জানতে পারে, লাশটি কামরুলের ছেলে মোহাদ্দিসের।
স্থানীয় লোকজন কামরুলের আচরণ সন্দেহজনক মনে করে তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই শিশুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কামরুলের চার সন্তান রয়েছে। সংসারে আর্থিক অসচ্ছলতা এবং সন্তানদের ভরণপোষণ ও লালন-পালন নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রায়ই ঝগড়া হতো। এর জেরেই দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।
ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ অথবা সুনামগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কামরুলকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
Leave a comment