ভারতে তিন দশক ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ড্রাই স্টেট’ হিসেবে ঘোষিত রাজ্য নাগাল্যান্ডে বিষাক্ত চোলাই মদ পান করে গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আইনি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজ্যজুড়ে অবৈধ মদের সমান্তরাল কারবার কতটা সক্রিয় ও ভয়াল, মর্মান্তিক এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তা আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব নাগাল্যান্ডের মোকোকচুং ও তুয়েনসাং—এই দুই জেলাতেই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে। এর মধ্যে মোকোকচুং জেলায় অন্তত আটজন এবং তুয়েনসাং জেলায় আরও ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। পান করা বিষাক্ত চোলাই মদে কোনো ধরনের মারাত্মক রাসায়নিক বা বিষাক্ত উপাদান মেশানো ছিল কি না, তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে নিহতদের সংগৃহীত নমুনা গুয়াহাটির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আই. বুংলাং চ্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অবৈধ মদ সরবরাহকারী চক্রকে নির্মূল করতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ৩,০০০ বোতল অবৈধ মদ জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নাগাল্যান্ডে ১৯৮৯ সালে প্রণীত কঠোর আইনি বিধিমালার আওতায় রাজ্যে যেকোনো ধরনের মদ উৎপাদন, বিক্রি ও সেবনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে দীর্ঘ চার দশক ধরে এই নিষেধাজ্ঞার বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কঠোর আইন অবৈধ মদের প্রবাহ থামাতে পারেনি; বরং এটি এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য অত্যন্ত লাভজনক কালোবাজার গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনার পর এখন তদন্তকারীদের মূল নজর অবৈধ মদের উৎস এবং রাজ্যের সর্বত্র বিস্তৃত সরবরাহ-শৃঙ্খল উৎখাত করার দিকে।
Leave a comment