ইরানের সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা ত্যাগের সময় গোপন কৌশলে বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি সিক্রেট সার্ভিস এবং সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা প্রটোকলের অংশ ছিল। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওহাইও সফর শেষে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, সিক্রেট সার্ভিস যেভাবে নির্দেশনা দেয়, তিনি কেবল সেই নির্দেশনাই মেনে চলেন।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, গত ৮ জুলাই তুরস্ক ছাড়ার সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর বিমানে উঠলেও পরবর্তীতে লোকচক্ষুর আড়ালে রানওয়ের একটি খাবার সরবরাহকারী ক্যাটারিং ভ্যানে চড়ে ‘সি-৩২এ’ মডেলের ছোট এক সামরিক বিমানে স্থানান্তরিত হন। ওই দিনই তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে রাষ্ট্রপ্রধানের নিরাপত্তাজনিত সুরক্ষাব্যবস্থা কঠোর রাখা হলেও তাঁর সফরসঙ্গী সাংবাদিক ও কর্মীরা পূর্ব নির্ধারিত বিমানটিতে করেই আঙ্কারা ত্যাগ করেছিলেন।
হুমকির ধরন সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, তিনি এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জিজ্ঞেস করেননি। নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট দাবি করে তিনি বলেন, “যেসব প্রেসিডেন্ট শক্তিশালী ও প্রভাবশালী, তারাই কেবল নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়েন। গত ছয় বছরে আমার চেয়ে বেশি কাজ আর কেউ করতে পারেনি।” তবে এসব হুমকি বা নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে তিনি কোনো উদ্বিগ্ন নন বলেও দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ন্যাটোর সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৭ জুলাই আঙ্কারা গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সফর চলাকালে আঙ্কারা ত্যাগের মুহূর্তে ছক কষে এমন অতর্কিত বিমান বদলের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সিক্রেট সার্ভিস প্রেসিডেন্টের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করায় পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয় বলে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
Leave a comment