ঢাকার সাভারে ১২ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মাদরাসার অধ্যক্ষকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে তাঁকে সাভার থানা পুলিশ আটক করে।
আটক ব্যক্তির নাম গাজী এইচ এম রবিউল আওয়াল। তিনি সাভারের কামাল গার্মেন্টস সংলগ্ন ‘হেরার আলো মডেল মাদরাসা’র অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ ও এজাহারের বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে আরবি পরীক্ষায় ফল খারাপ করায় ওই ছাত্রীকে নিজের কক্ষে আলাদাভাবে পড়ানোর প্রস্তাব দেন অধ্যক্ষ রবিউল আওয়াল। সন্তানের পড়ালেখার অগ্রগতির কথা চিন্তা করে অভিভাবক তাতে সম্মতি জানান। এরপর থেকেই নিয়মিত অধ্যক্ষের কক্ষে পড়তে যেত শিশুটি। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নানা প্রলোভনে শিশুটিকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করতেন অভিযুক্ত শিক্ষক। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতিও দেখানো হতো।
মামলার বিবরণে বলা হয়, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নিজ কক্ষে পুনরায় শিশুটিকে আপত্তিকর স্পর্শ করেন অধ্যক্ষ। শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে কেঁদে ফেললে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়ি ফিরে কান্নাকাটি শুরু করলে স্বজনেরা কারণ জানতে চান এবং সে মায়ের কাছে পুরো নির্যাতন ও হুমকির ঘটনা বিস্তারিত প্রকাশ করে।
ঘটনাটি পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ গাজী এইচ এম রবিউল আওয়াল দাবি করেন, “কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে” তিনি এমন অন্যায় আচরণ করে ফেলেছেন।
এদিকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে অভিযুক্তের স্ত্রী হাফিজা বেগম জানান, ঘটনার কথা তিনি আগেই জানতেন এবং ভুক্তভোগী শিশুর মাকেও সেটি অবহিত করেছিলেন। এমনকি তাঁর স্বামী শিশুটিকে পরবর্তীতে বিয়ে করার ইচ্ছার কথাও তাঁকে জানিয়েছিলেন।
সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত রবিউল আওয়ালকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Leave a comment